বহুতল ভবনে চাষাবাদ, বায়ুগ্যাস ও সোলার প্যানেলের সাহায্যে জ্বলবে বাতি




বহুতল ভবনে আধুনিক চাষাবাদ, আন্ডাগ্রাউন্ডে গবাদি পশু পালন করা হবে, যার মূত্র দিয়ে তৈরি হবে বায়ু গ্যাস ও ছাদে বসানো সৌর প্যানেল নিজস্ব উদ্যোগে থাকবে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
এমনই এক প্রকল্প নিয়ে মানিকগঞ্জ ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৭তে স্টল সাজিয়েছিলেন মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের একটি টিম।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই পগ্রামের সহায়তায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাষনের উদ্যোগে স্থানীয় বিজয় মেলা মাঠে ৩ দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ধাবনী মেলা ২০১৭ শনিবার রাতে পুরুস্কার বিতরণীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন অধিদপ্তর অফিস, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, বিভিন্ন বিদ্যালয় গুলির প্রায় শতাধিক স্টল ছিল এবারের ডিজিটাল মেলায়। মেলার শেষ দিন সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র অমিত চৌধুরী নেতৃত্বে বহুতল ভবনে কিভাবে অল্প জায়গা নিয়ে আধুনিক চাষাবাদ করা যায় এমন একটি প্রকল্প দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
এ প্রকল্পের উদ্ভাবক অমিত চৌধুরী জানান, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হারান চন্দ্র সরকার স্যারের পরামর্শে বহুতল ভবনে কিভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে চাষাবাদ করা যায় এমন একটি প্রজেক্ট আমার এক সহপাঠী কে নিয়ে শুক্রবার সারা রাত জেগে দৃশ্যমান করি।
পরের দিন শনিবার বালিয়াটী ঈশ্চর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম ছাত্র রাকিবুল ইসলাম, মোঃ ফরিদুজ্জামান, ৯ম শ্রেণি সুপ্রকাশ বাকালীর সহযোগিতায় আমাদের বিদ্যালয়ের স্টলে সাজিয়ে ফেলি। শনিবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক দর্শনার্থীদের বহুতল ভবনে আধুনিক পদ্দতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে ধারণা দিলেও কোনো প্রশাসনের  স্যারদের কে প্রজেক্ট দেখানোর চাহিদা মনে থেকেই যায়।
হঠাৎ করে বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার স্যার  আমারে ষ্টলে হাজির, তোমরা কি তৈরি করেছ, আমাকে দেখাও।

এ প্রকল্পের উদ্ভাবক অমিত চৌধুরী প্রকল্প সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন, আমাদের দেশে বসত বাড়ি, মিল কারখানা তৈরির কারণে দিন দিন ফসলি জমি কমে যাচ্ছে, তাই বলে কি চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে, না অল্প জমি নিয়ে, সেখানে ভবন তৈরি করে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা সম্ভব, তার প্রকেল্পর নিচ তলায় গবাদী পশুর খামার থাকবে,  প্রতিটি ফ্লোরে ২-৩ ফুট উচু মাটি ফেলানো হবে,  ১ম তলায় চাষাবাদ করা যাবে গভীরমূলী ফষল, ২য় তলায় মধ্যমমূলী ফষল, ৩য় তলায় স্বল্প গভীরমূলী ফসল। এভাবে যত বড় ভবন সব ফ্লোরেই চাষাবাদ সম্ভব।
নিচ তলার গবাদী পশুর খামারের বৃষ্ঠা দিয়ে বায়ু গ্যাস তৈরি হবে আর ছাদে সোলার প্যানেল  এই দুইয়ের সম্বন্বয়ে নিজস্ব উদ্যোগে বিদ্যুৎ তৈরি হবে, যা দিয়ে  সেচ, লাইট সহ ইত্যাদি কাজে ব্যাবহার হবে। অপর দিকে ছাদের মধ্যে বিশাল আকৃতির পানির চৌবাচ্চা, যা বৃষ্টির পানি ধারণ করবে। এ পানি দিয়ে সেচ কাজসহ অন্যান্য পানির চাহিদা মিটানো সম্বব। চুতুরদিকে কোনো দেয়াল থাকবে না, ভবনে চাষাবাদ করার ফলে গরু ছাগলের আক্রমণ থেকে রেহাই পাবে। এমন প্রকল্প দেখে মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার মঞ্চে গিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার সময় মাইকে আধুনিক প্রকল্পের উদ্ভাবক বিদ্যালয় ধন্যবাদ জানান।
এমন সময়ে মাইকে বহুতল ভবনে আধুনিক পদ্দতিতে চাষাবাদ পদ্দতির  কথা শুনে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ মঞ্চে না উঠে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শণ শুরু করেন। তিনি প্রায় স্টলে ১-২ মিনিট সময় দিলেও বালিয়াটী ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের স্টলে বহুতল ভবনে আধুনিক পদ্দতিতে চাষাবাদ প্রকল্পটি ভালো করে দেখেন ও শুনেন। তিনি প্রায় ১০ মিনিট সময় দেন এ স্টল পরিদর্শন করেন এবং এর উদ্ভাবকদের ভূয়সী প্রসংসা করেন।

এসময় তার সাথে ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট অঞ্জনা খান মজলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হাসান।
পরে প্রধান অতিথি বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ মেলার সমপনি অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে পুরুস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনদিন ব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৭ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
Share on Google Plus

About মানিকগঞ্জ বার্তা

0 comments:

Post a Comment